শহর থেকে গ্রাম, রাস্তাঘাট থেকে গ্রামের
অলি গলি, এক সময় সবখানেই চোখে পড়তো ঈদকার্ডের রমরমা ব্যবসা। কিন্তু
ডিজিটালের বদৌলতে আজ তার দেখা মেলা ভার। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার হাতে এখন
স্মার্টফোন, ট্যাবের ছড়াছড়ি। তারপর আবার ফেসবুক, টুইটার, এসএমএস, এমএমএস
ই-মেইল। ফলে এখন আর ঈদকার্ডের প্রয়োজন হয় না। শুধু ‘ঈদ মোবারক’ লিখে একটা
ক্ষুদেবার্তা বা ঈদ মেসেজ চালিয়ে দিলেই হয়ে যাচ্ছে ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’।
ঈদকার্ড ব্যবসায়ীদের আগের মতো আর ব্যবসা
নেই। এক যুগ আগেও যেখানে ঈদ মানেই ছিল কার্ডের রমরমা বাণিজ্য; ২০১৬ সালে
এসে আজ সেখানে নেই কোনো উত্তাপ। অলস সময় পার করছেন কার্ড ব্যবসায়ীরা।
রাজধানী বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজাদ
প্রোডাক্টস, আইডিয়াল প্রোডাক্টস, ফাহাদ প্রোডাক্টসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান
ঘুরে দেখা যায়, ঈদ ঘনিয়ে আসলেও অলস সময়পার করছেন দোকানের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঈদকার্ডের কোনো ক্রেতা এমনকি ঈদকার্ডের জন্য কোনো
গ্যালারিও চোখে পড়েনি।
বিভিন্ন ধরনের কার্ড, ক্যালেন্ডার,
পোস্টার তৈরিতে বছরজুড়েই ব্যস্ত থাকে দেশের প্রথম সারির মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান
রাজধানীর পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টস। কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী
ম্যানেজার আশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে।
তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ঈদ কার্ডের এখন
কোনো ব্যবসা নেই। ব্যাংক বীমাসহ কিছু অফিসিয়াল কার্ডের অর্ডার পাচ্ছি,
এছাড়া ঈদকার্ডের কোনো বিক্রি নেই।’
বর্তমান যুগ ইন্টানেটের যুগ। ইমেইল,
ফেসবুকসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ এখন আমন্ত্রণ বা শুভেচ্ছা
জানায়। তাই ডিজিটালাইজেশনের কারণে আগামী ১০ বছর পর ঈদকার্ড বলে কিছু থাকবে
না বলে আশঙ্কা প্রকাশ তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
আহমেদ নুর বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় এখন
অনেক সহজ হয়ে গেছে। ঈদকার্ডের ব্যবহার এখন আর নেই। প্রযুক্তির উন্নতির
সঙ্গে সঙ্গে মানুষও যন্ত্রনির্ভর হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ঈদকার্ড কিনে নিজের
হাতে দুই লাইন লেখার চাইতে মোবাইলের মেসেজে ‘ঈদ মোবারক’ লিখে সবাইকে
ফরওয়ার্ড করা বা ফেসবুকে একটি ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ছবি আপ করাতেই এখন সবাই
স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।’
আইডিয়াল প্রোডাক্টসের ম্যানেজার মো.
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদকার্ড ব্যবসায় আগের সেই জৌলুস নেই। বছর দশেক আগেও
ঈদের আগে তরুণ-তরুণি থেকে শুরু বৃদ্ধরাও পর্যন্ত ঈদকার্ড কেনার জন্য দোকানে
হুমড়ি খেয়ে পড়তো। দোকানে ক্রেতাদের লম্বা লাইন ছিল, তাদের সামাল দিতে
অতিরিক্ত লোক রাখতে হতো। কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্রেতা নেই।
শুধু বসে থাকতে হয়।’
এভাবে আরও কিছু দিন চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী ঈদকার্ড কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
এভাবে আরও কিছু দিন চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী ঈদকার্ড কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

0 comments: