Tuesday, September 5, 2017

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার





নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিমি উত্তরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। এর আদি নাম সোমপুর বিহার। ইতিহাসবিদদের মতে, পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে এ বিহার নির্মাণ করেছিলেন। বিহারের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট। সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত জ্যামিতিক নকশার পুরাকীর্তির যে সন্ধান পাওয়া গেছে বিশেষজ্ঞদের মতে পাহাড়পুর তার মধ্যে সেরা। কারো কারো মতে এখানে একটি জৈন মন্দির ছিল। আর সেই মন্দিরের উপরেই গড়ে তোলা হয়েছে এ বিহার। এ বিহারে মোট ১৭৭টি ঘর রয়েছে। ঘরগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন। বিহারের ঠিক মাঝ খানে রয়েছে একটি মন্দির। মন্দিরটি দৈর্ঘ্যে ৪০০ ফুট, প্রস্থে প্রায় ৩৫০ ফুট ওউচ্চতায় ৭০ ফুট। কালের বিবর্তনে মন্দিরের সবচেয়ে উপরের অংশ ধসে গেছে।বাইরের দেয়ালে বুদ্ধমূর্তি, হিন্দুদের দেবী মূর্তি ও প্রচুর পোড়া মাটির ফলকচিত্র রয়েছে। এসব চিত্রে সাধারণ মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনগাথা চিত্রিত হয়েছে। বিহারের মূল বেষ্টনীর দেয়াল প্রায় ২০ ফুট চওড়া। বেষ্টনীর মধ্যেরয়েছে আরেকটি মন্দির।
এটি মূল মন্দিরের ধংসস্তূপ বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়াও এ বিহারের চারপাশে আরো অনেক স্থাপত্যের নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়। বিহার থেকে১৬০ ফুট দূরে রয়েছে ইট ও পাথর দিয়ে বাঁধানো একটি ঘাট। এ ঘাটের পাশ দিয়ে একসময় একটি নদী ছিল। এ ঘাট নিয়ে এলাকায় অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। এ ঘাটে মইদল রাজার কন্যা সন্ধ্যাবতী স্নান করতো বলে এ ঘাটের নাম ছিল সন্ধ্যাবতীর ঘাট।একদিন নদীর স্রোতে ভেসে আসা জবা ফুলের ঘ্রাণ নেয়ার পর সন্ধ্যাবতী গর্ভবতীহন এবং পরবর্তীতে তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন।
নরওয়ে সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৩ সালে এখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। এ জাদুঘরে খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামলের রুপার মুদ্রাসহ বিভিন্ন সময়ের প্রাচীনমুদ্রা, কয়েক হাজার পোড়ামাটির ফলকচিত্র, পাথরের মূর্তি, তাম্রলিপি, শিলালিপি ইত্যাদি স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া বিহারের চারপাশের প্রাকৃতিকসৌন্দর্যও পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও হোটেল-মোটেল স্থাপন করে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। এবং ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ।
অবস্থান:
নওগা জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে বিহারের অবস্থান
কিভাবে যাওয়া যায়:
নওগাঁ/জয়পুরহাট শহর থেকে সরাসরি বাসযোগে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে যাওয়া যায়।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 comments: